SURYAKUMAR_SELFRESPECTHEROIC The Lector 

‘জুতো পায়ে’ গোরা সাহেবকে স্পর্দ্ধা দেখিয়েছিলেন সূর্যকুমার

১৮শতকের দ্বিতীয়ার্ধের কথা। সেই সময় গোরা সাহেবদের সামনে জুতো পায়ে যাওয়া যেত না। গোরা সাহেবদের বাংলায় এটাই ছিল অলিখিত রীতি। একেই গোরা সাহেবদের এদেশের মানুষদের হীনচোখে দেখতেন। তারওপর কেউ যদি সাহেবদের বানানো এই রীতি ভাঙেন, তাহলে তো রক্ষে নেই।

তখন কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের নাম Graduate Medical College। এই কলেজের চূড়ান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে GMCB উপাধি দেওয়া হত। GMCB পাশ করে ডাক্তার সূর্যকুমার সর্বাধিকারী গভর্নমেন্টের কাজে যোগ দিয়েছিলেন। দ্বিতীয় ব্রহ্মযুদ্ধে রেঙ্গুনে বিশেষ কৃতিত্বের সঙ্গে কাজ শেষ করে ডাক্তার সূর্যকুমার তখন গাজিপুরে। তখন গাজিপুরের ব্রিগেড- ইন-চার্জ জেনারেল মেসন। ভারতীয়দের তিনি খুবই হেয় করতেন। সেই মেসন সাহেবের সঙ্গেই সাক্ষাৎ করতে গেলেন ডাক্তার সূর্যকুমার সর্বাধিকারী। জুতো পায়ে গটগটিয়ে মেসন সাহেবের বাড়ি গেলেন তিনি। ডাক্তার হলেও ‘নেটিভ’তো। দারোয়ান ডাক্তার সর্বাধিকারীকে স্মরণ করালেন, রাগী মেসন সাহেবের সামনে তিনি যেন খালি পায়ে যান। ডাক্তার সূর্যকুমার সে কথা গুরুত্ব দিলেন না। ফের একই কথা বললেন দারোয়ান। ‘বাঙালির আত্মমর্যাদা বলে কিছু নেই’, রেগে গেলেন ডাক্তার সর্বাধিকারী। দারোয়ানকে দু’একটা কড়া কথা শুনিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে এলেন ডাক্তার। ওপর থেকে বাঙালি যুবকের ‘স্পর্দ্ধা’ দেখছিলেন জেনারেল মেসন। মেসন দারোয়ানকে নির্দেশ করলেন, জুতো পরেই যেন ডাক্তার সূর্যকুমারকে ভিতরে আসতে দেওয়া হয়।

বীরের মত বাড়ির ভিতরে ঢুকে সাহেবকে অভিবাদন জানালেন সূর্যকুমার। মেসন সাহেবও প্রতি অভিবাদন করলেন। তারপর ডাক্তারকে সরাসরি জিজ্ঞাসা করলেন, তিনি ফিরে যাচ্ছিলেন কেন। নির্ভীক সূর্যকুমার বললেন, ‘আমি তোমার ভৃত্যের মুখে শুনিলাম যে, কোনও দেশীয় লোকের জুতো পায়ে তোমার গৃহে প্রবেশের অধিকার নাই। কিন্তু আমি ঐরূপ আদেশ প্রতিপালন করা আত্মসম্মানের গ্লানিকর বলিয়া মনে করি, তাই ফিরিয়া যাইতেছিলাম।’ এত স্পষ্ট বক্তব্য মেসন সাহেব এরআগে শোনেননি। এক বঙ্গযুবকের আত্মসম্মানবোধ দেখে ভুলটা হয় তো বুঝতে পেরেছিলেন জেনারেল মেসন। এই ঘটনার পর থেকে ডাক্তার সূর্যকুমার সর্বাধিকারীকে বিশেষ শ্রদ্ধার সঙ্গে দেখতেন।

Related posts

Leave a Reply

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: