FREEDOM-SARALA-DEVIHEROIC The Lector 

বাংলার প্রথম গুপ্ত বিপ্লবী দল খুলতে সাহায্য করেছিলেন সরলা দেবী

১৯০২ সাল। অরবিন্দ ঘোষ তখন বরোদাতে। অরবিন্দ ঘোষের চিঠি নিয়ে সরলা দেবীর কাছে আসেন যতীন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়। দেশের শৃঙ্খলমোচনে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে বিপ্লবের কাজে। প্রয়োজন বিপ্লবী দল গঠন করা। যতীন্দ্রনাথকে সাহায্য করলেন সরলাদেবী চৌধুরানি। বারীন ঘোষের নেতৃত্বে স্থাপিত হল ভারত উদ্ধার দল। এটাই বাংলার প্রথম গুপ্ত বিপ্লবী দল। নানা কসরৎ, ড্রিল, ঘোড়ায় চড়া, লাঠি খেলা চলতে থাকল। সরলা দেবী নিজেই লিখেছেন, “ আমি তাকে (যতীন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়কে) সর্বতোভাবে সাহায্য করতে লাগলুম। সেও আমার খুব অনুগত হল ।   … যতীন বাঁড়ুয্যে তার একজন প্রধান কর্মকর্তা- সেখানেই খায় দায় থাকে আর যারা দলে আসে তাদের কসরৎ ও ড্রিল এবং ঘোড়ায় চড়া শেখায়। …খালি আমার মতভেদ হল যখন শুনলাম তাদের দল থেকে ডাকাতি চালানোর হুকুম বেরিয়েছে।”

স্বদেশী দ্রব্য ব্যবহারের প্রচারও স্বদেশী আন্দোলনের অংশ। বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সংগ্রহ করা, শুধুমাত্র মেয়েদের জন্য স্বদেশী বস্ত্র ও দেশীয় নানা জিনিসের দোকান খুললেন সরলা দেবী। নাম দিলেন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার।  বঙ্গভঙ্গের আগেই স্বদেশী দ্রব্যের প্রচারে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। যোগেশ চৌধুরী ও আরও কয়েকজনের সঙ্গে মিলে বউবাজার খোলা হয়েছিল স্বদেশী স্টোর্স। দোকানের সবই দেশীয় সামগ্রী।

১৯০৩ সাল। দেশাত্মবোধ জাগাতে শিবাজি উৎসবের অনুকরণে কলকাতায় ‘প্রতাপাদিত্য উৎসব’করলেন সরলা দেবী। বাংলার যুবকদের দেহে ও মনে শক্তির উৎসার ঘটাতে ১৯০৪ সালে ‘বীরাষ্টমী ব্রত’ করেন তিনি।

বহু দেশাত্মবোধক গান লিখেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই ভাগ্নী। ১৯০০ সালে প্রকাশিত হয় সরলা দেবী রচিত ১০০ টি দেশাত্মবোধক গানের সংকলন গ্রন্থ শতগান

Related posts

Leave a Reply

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: