UJJALA-FREEDOMHEROIC The Lector 

কিশোরী উজ্জ্বলার কোমরে অস্ত্র লুকিয়ে বিপ্লবের পাঠ দিয়েছিলেন বাবা

১৯১৪ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন উজ্জ্বলা মজুমদার। বাবা সুরেশচন্দ্র মজুমদার বিপ্লবীদের সঙ্গে যুক্ত। কলকাতা থেকে ঢাকায় আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে যেতে হবে। সেটা ১৯২৮ সাল। ১৪ বছরের উজ্জ্বলার কোমরে সেই অস্ত্র লুকিয়ে দিয়েছিলেন বাবা সুরেশচন্দ্র। বাবার শেখানো পাঠে উজ্জ্বলা সেদিন থেকেই বিপ্লবীদের পথে।

১৯৩৪ সাল। একটি হারমোনিয়াম নিয়ে দার্জিলিং পৌঁছলন উজ্জ্বলা। হারমোনিয়ামে লুকনো দু’টি আগ্নেয়াস্ত্র। স্নো ভিউ হোটেলে উঠলেন মনোরঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় ও উজ্জ্বলা। জুবিলি স্যানিটোরিয়ামে আশ্রয় নিলেন ভবানী ভট্টাচার্য ও রবি বন্দ্যোপাধ্যায়। উদ্দেশ্য গভর্নর অ্যান্ডারসানকে হত্যা।

দার্জিলিংয়ে ফ্লাওয়ার শো-তে আসছেন অ্যান্ডারসান। কিন্তু পরিকল্পনা সফল হল না। ৮ মে, ১৯৩৪। লেবংয়ের মাঠে ঘোড়দৌড়। উপস্থিত থাকবে গভর্নর। এবার নিখুঁত পরিকল্পনা। দামী ইউরোপীয় পোশাকে ভবানী ভট্টাচার্য ও রবি বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে রিভলবার। জায়গা নিয়ে দাঁড়িয়ে পড়লেন দু’জনে। নির্দেশ মত লেবং ছাড়লেন উজ্জ্বলা ও মনোরঞ্জন। দার্জিলং থেকে ট্রেনে উঠলেন দু’জনে। ওদিকে লেবংয়ের মাঠে গভর্নরের কাছাকাছি ভবানী ও রবি। গুলির শব্দে কেঁপে উঠল লেবং। আহত হলেও রক্ষা পেলেন অ্যান্ডারসান।

সন্ধ্যার মুখে শিলিগুড়িতে পৌঁছল পুলিশ। ট্রেনে তন্নতন্ন করে তল্লাশি চালিয়েও উজ্জ্বলা ও মনোরঞ্জনকে ধরতে পারল না পুলিশ। লুকিয়ে কলকাতা পৌঁছলেন দু’জনে। ভবানীপুরে যুগান্তর দলের কর্মী শোভারানি দত্তের বাড়িতে আশ্রয় নিলেন উজ্জ্বলা। সেখান থেকেই তাঁকে ও শোভারানিকে গ্রেফতার করল পুলিশ। পরে অবশ্য শোভারানি দেবী ছাড়া পান। তবে স্পেশাল ট্রাইবুনালে উজ্জ্বলার ২০ বছরের জেল হল। মনোরঞ্জন, রবি ও ভবানীর ফাঁসি। হাইকোর্টের আপিলে উজ্জ্বলা মজুমদারের সাজা কমে হয় ১৪ বছরের। ফাঁসির বদলে ২০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড মনোরঞ্জন ও রবির। ভবানী ভট্টাচার্যের ফাঁসির সাজা বহাল থাকে। সাজাপ্রাপ্তদের পাঠানো হল আন্দামানে, আর উজ্জ্বলা মজুমদারকে নিয়ে যাওয়া হল মেদিনীপুর সেন্ট্রাল জেলে।

Related posts

Leave a Reply

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: