patience_waitPout The Lector 

সবুরে মেওয়া ফলে

সবুরে কি সত্যিই মেওয়া ফলে? ডানলপ, দমদম, নাগেরবাজারে ট্যাক্সি ধরতে গেলে ৫ বছর আগেও যে হয়রানি পোহাতে হত, আজও সেই একই অশান্তি। হলুদ ট্যাক্সিতে চড়লে, দশ-বিশ টাকা বেশি এমনিতেই দিতে হয়। এসব সকলেরই গা সওয়া হয়ে গেছে। কিন্তু উপরের জায়গাগুলো থেকে ট্যাক্সিতে উঠলে, ছুটকো বকশিসে কাজ হবে না। এক একজন যা ভাড়া চাইবে, তাতে রাস্তার মোড়েই প্রোদুনোভা ভল্ট খেতে ইচ্ছে জাগবে।

কলকাতার রাস্তায় প্রথম মোটরগাড়ি চলেছিল ১৮৯৬ সালে। আর তিলোত্তমা প্রথম ট্যাক্সি চড়েছিল ১৯০৬তে। সেই শুরু। চৌরঙ্গি থেকে মিটারওয়ালা ট্যাক্সি বা ওভারল্যান্ড গাড়িতে উঠলে বকশিস দিতে হত কি না, জানা নেই। তবে তখনও অনেক ট্যাক্সি চালকের উশৃঙ্খলতার কথা ইতিহাস ঘাঁটলে পাওয়া যায়। রাধারমণ মিত্র লিখেছেন, ‘প্রথম ট্যাকসিওয়ালাদের মধ্যে নামকরা ছিল ‘A’ কোম্পানি।… এদের সব ট্যাকসিরই নম্বর ছিল ‘A’। এদের ৮০-৯০ খানা ট্যাকসি ছিল, গ্যারাজ ছিল মালেন স্ট্রিটে। চালকদের সবাই ছিল বাঙালি। তাদের মাইনে ও কমিশন খুব ভালো ছিল। ক্রমে তাদের মধ্যে মদ-খাওয়া, উচ্ছৃঙ্খলতা, কাজে গাফিলতি ও যখন-তখন কামাই করা ইত্যাদি দোষ দেখা দিল।’

সবুর করুন, মেওয়া ফলান। কিন্তু ট্যাক্সি ধরার অভিজ্ঞতা বলছে, সবুরও এক্ষেত্রে সবুর করতে চায় না।

ঋত্বিক ঘটকের অযান্ত্রিকে বিমলের প্রাণের প্রিয় ছিল লড়ঝড়ে শেভ্রোলে জ্যালপি ট্যাক্সি, জগদ্দল। ড্রাইভার বিমল আর জগদ্দলের সম্পর্ক ছিল আত্মিক। মানুষ বিমলের মত ট্যাক্সি চালক চোখে পড়ে না। তবে ভালো ট্যাক্সি চালক কি বাড়ন্ত? তা নয়, যদি সত্যিই গুণাগার না দিয়ে ট্যাক্সি পেয়ে যান, তবে সেই ট্যাক্সি চালকের সঙ্গে একটা সেলফি তুলুন। তারপর পোস্ট করুন ফেসবুকে।

Related posts

Leave a Reply

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: