KALIPADA-CHAKRABORTYHEROIC The Lector 

চট্টগ্রামের বিপ্লবীরা- কালীপদ চক্রবর্তী

আর্তের সেবা কি রোগীর শুশ্রূষা- ছোট থেকেই সমাজসেবার নানা কাজে ঝাঁপিয়ে পড়তেন কালীপদ চক্রবর্তী। ছেলে-যুবাদের কাছে তিনি ছিলেন প্রিয় ‘পণ্ডিতদা’। একসময় কংগ্রেসের একনিষ্ঠ কর্মী ও দক্ষ সংগঠক হয়ে ওঠেন কালীপদ। যে কোনও বিপদে যেন ঝাঁপিয়ে পড়তেন তিনি। দেশের কাজই ধ্যানজ্ঞান। স্বাধীনতা আন্দোলনের কাজে অনেক খরচ। তাই পৈত্রিক সম্পত্তি দেশের কাজে উৎসর্গ করে দিয়েছিলেন কালী চক্রবর্তী। চট্টগ্রাম অস্ত্রগার লুঠের ঘটনায় পুলিশের খাতায় ‘ফেরারি’ কালীপদ চক্রবর্তী। গ্রেফতারের জন্য তাঁর নামে পুরস্কার ঘোষণা করে পুলিশ। তবে ১৯৩০ সালে অস্ত্রাগার লুঠের ঘটনার পর থেকেই বেপাত্তা কালীপদ।

চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুঠের পর ব্রিটিশ পুলিশ সতর্ক হয়ে ওঠে। তখন বিপ্লবীরা এত বড় সঙ্ঘবদ্ধ অভিযান আর রূপ দিতে পারছিলেন না। ঠিক হয়, সরকারি কর্মচারী খতম করতে হবে। শুরু হয় চাঁদপুর ইন্সপেক্টর হত্যার ছক কষা। ততদিনে ঢাকা পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল লোম্যানকে গুলি করে মেরেছেন বিপ্লবীরা। তখন ঢাকা পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল পদে আসীন ক্রেইগ। এবার ক্রেইগকে খতম করতে হবে।

সেদিন চট্টগ্রাম থেকে চাঁদপুর যাচ্ছিলেন ক্রেইগ। রাতের অন্ধকারে ট্রেন পৌঁছয় চাঁদপুর। এক পদস্থ পুলিশ অফিসার ট্রেন থেকে নামেন। সারি বাঁধা পুলিশ সেলাম জানায়। দুই বিপ্লবী ঝাঁপিয়ে পড়েন। পরপর এগারোটা গুলি করা হয়। ভুল ভাঙে পরদিন সকালে। ক্রেইগ নিহত হননি। নিহত অফিসারের নাম তারিণী মুখোপাধ্যায়। তিনি রেল পুলিশের ইন্সপেক্টর। রাতের অন্ধকারে ঠাওর করতে পারেননি দুই বিপ্লবী।
১৯৩০ সালের ১ ডিসেম্বর চাঁদপুরের ২২ মাইল দূরে হাজিপুর স্টেশনে ধরা পড়েন বিপ্লবী রামকৃষ্ণ বিশ্বাস ও কালীপদ চক্রবর্তী। দু্’জনেই চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুঠের মামলায় ফেরারী। কলকাতার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল বিপ্লবী রামকৃষ্ণ বিশ্বাসকে ফাঁসির সাজা শোনায়। বয়স কম হওয়ায় কালীপদ চক্রবর্তীর দ্বীপান্তের সাজা হয়।

জেলে গিয়ে অবসর সময়ে ইংরেজি শিখতে শুরু করেন কালীপদ চক্রবর্তী। দু’বছর অবিরাম পরিশ্রমের পর নানা মতবাদের বই পড়তে শুরু করেন। অবশেষে কমিউনিস্ট মতবাদ গ্রহণ করেন কালী চক্রবর্তী।

Related posts

Leave a Reply

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: