MEDICAL-COLLEGEOLDIES RUMBLE The Lector 

অসুস্থ স্ত্রীর মৃত্যু শোকে চিকিৎসক হওয়ার সঙ্কল্প করেন তালতলার দুর্গাচরণ

১৮১৯ সালে ব্যারাকপুরের কাছে মণিরামপুরে জন্ম দুর্গাচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ১০ বছর বয়সে হিন্দু কলেজে ভর্তি হন তিনি। বিয়ের পর বাবার চাপে পড়াশুনো ছেড়ে সল্ট বোর্ডে চাকরি নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু উচ্চশিক্ষার অদম্য ইচ্ছায় চাকরি ছেড়ে হিন্দু কলেজে ভর্তি হলেন দ্বারকানাথ ঠাকুরের প্রেরণায়। কিন্তু আর্থিক দুরবস্থার কারণে কলেজের পাঠ সম্পূর্ণ হয়নি। ইংরাজি সাহিত্য, বিজ্ঞান, তৎকালীন ইউরোপের আধুনিক বই পড়ে ততদিনে আধুনিক শিক্ষায় অনেকটাই অগ্রসর হয়েছেন দুর্গাচরণ। ২১ বছর বয়সে ডেভিড হেয়ারের ইংরাজি স্কুলে চাকরি পান তিনি।

একদিন স্কুলে পড়ানোর সময় খবর পান স্ত্রী খুব অসুস্থ। ডাক্তার নিয়ে পৌঁছনোর আগেই দুর্গাচরণের স্ত্রীর মৃত্যু হয়। উপযুক্ত চিকিৎসার অভাবে স্ত্রীর মৃত্যু তাঁকে কুড়ে কুড়ে খেতে থাকে। ঠিক করেন, ডাক্তার হতে হবে। যেই কথা সেই কাজ। হেয়ারের অনুমতি নিয়ে প্রতিদিন দু’ঘণ্টা করে মেডিক্যাল কলেজে গিয়ে চিকিৎসাশাস্ত্রের পাঠ নিতে থাকেন দুর্গাচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

কিন্তু ফের পড়াশুনোয় বিঘ্ন ঘটাতে উপস্থিত হলেন হেয়ারের স্কুলের নতুন সুপারিন্টেন্ডেন্ট মিস্টার জোন্স। সাফ জানিয়ে দিলেন প্রতিদিন দু’ঘণ্টা করে ছুটি দেওয়া যাবে না। শিক্ষকের চাকরি ছেড়েই ডাক্তারির অবশিষ্ট পাঠ শেষ করলেন দুর্গাচরণ।

ডাক্তার হয়ে চিকিৎসা শুরু করলেন দুর্গাচরণ। সেই সময় জার্ডিন স্কিনার কোম্পানির বেনিয়ান রামকমল বন্দ্যোপাধ্যায় গুরুতর অসুস্থ হলেন। শহরের অনেক ডাক্তার দেখলেন। পরীক্ষার পর সকলেই আশা ছেড়ে দিলেন। দুর্গাচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় দেখে প্রেসক্রিপশন দিলেন। সেই সময় ইংল্যান্ডের বিখ্যাত ডাক্তার রিচার্ডসন কলকাতায় এসেছেন। তাঁকে দেখানো হল দুর্গাচরণের প্রেসক্রিপশন। ডাক্তার রিচার্ডসন বললেন, একদম ঠিক আছে। সুস্থ হয়ে উঠলেন রামকমল। এরপর নিজেই দুর্গাচরণকে ডেকে আলাপ করলেন ডাক্তার রিচার্ডসন। দুর্গাচরণকে বললেন, আপনি ‘দেশি রিচার্ডসন’। শহরে ডাক্তার হিসেবে খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ল চিকিৎসক দুর্গাচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

Related posts

Leave a Reply

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: