SARALA_DEVI_NHEROIC The Lector 

গোরা পেটানো ভারতীয়দের কাহিনি ছাপতেন সরলাদেবী

ছোট থেকেই ব্রিটিশ পরাধীনতা মানতে পারতেন না সরলাদেবী। ১৮৮৬ সাল। তের বছর বয়সে এন্ট্রান্স পরীক্ষা দিচ্ছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাগ্নী সরলাদেবী। ইতিহাস পরীক্ষা। প্রশ্ন এসেছে, মেকলে লিখিত ‘লর্ড ক্লাইভ’ নামক বইয়ের ওপর ভিত্তি করে লিখতে হবে ক্লাইভের বঙ্গবিজয়। মেকলের বইতে বাঙালিদের হেয় করা হয়েছিল। তার প্রতিবাদ করে, তেজের সঙ্গে লিখেছিলেন বিপরীত মন্তব্যপূর্ণ উত্তর। পরীক্ষক ছিলেন এন ঘোষ। পরীক্ষক ঘোষ খোঁজ করেছিলেন, মেয়েটি কে। সেবার ইতিহাসে সর্বাধিক নম্বর পান সরলাদেবী।

১৮৯০ সালে ইংরেজি অনার্স সহ বিএ পাশ করেন সরলাদেবী। সেই বছরই কংগ্রেসের কলকাতা অধিবেশনে প্রতিনিধিরূপে অংশ নেন সরলা দেবীর মা স্বর্ণকুমারী দেবী। দুই পর্যায়ে প্রায় ১৬ বছর ‘ভারতী’র সম্পাদিকা ছিলেন স্বর্ণকুমারী দেবী। ‘ভারতী’র সম্পাদনা করেন সরলা দেবীও।
‘ভারতী’তে লিখলেন ‘বিলিতী ঘুষি বনাম দেশী কিল’। আত্মজীবনী ‘জীবনের ঝরাপাতা’তে লিখেছেন, “ভারতীর পৃষ্ঠায় আমন্ত্রণ করলুম, রেলে, ষ্টীমারে, পথে ঘাটে যেখানে সেখানে গোরা সৈনিক বা সিভিলিয়ানদের হাতে স্ত্রী, ভগ্নী, কন্যা বা নিজের অপমানে মূহ্যমান হয়ে আদালতে নালিশের আশ্রয় না নিয়ে- অপমানিত ক্ষুব্ধ মানী ব্যক্তি স্বহস্তে তখনি তখনি অপমানের প্রতিকার নিয়েছে- সেই সকল ইতিবৃত্তের ধারাবাহিক বর্ণনা পাঠাতে। তাঁরা পাঠালেন ও তাঁদের ইতিবৃত্ত ‘ভারতী’তে বেরতো থাকল। পাঠকমণ্ডলীর মনে লুকানো আগুন ধুঁকিয়ে ধুঁকিয়ে জ্বলে উঠল প্রবল তেজে। ”

১৯০৩ সাল। দেশাত্মবোধ জাগাতে শিবাজি উৎসবের অনুকরণে কলকাতায় ‘প্রতাপাদিত্য উৎসব’করলেন সরলা দেবী। বাংলার যুবকদের দেহে ও মনে শক্তির উৎসার ঘটাতে ১৯০৪ সালে ‘বীরাষ্টমী ব্রত’ করেন তিনি।
অরবিন্দ ঘোষ তখন বরোদাতে। ১৯০২ সালের শেষদিকে অরবিন্দ ঘোষের চিঠি নিয়ে সরলা দেবীর কাছে আসেন যতীন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়। উদ্দেশ্য, বিপ্লবী গুপ্ত সমিতি স্থাপন। বারীন ঘোষের নেতৃত্বে দল হল। যতীন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় তার অন্যতম কর্তা। নানা শরীরি কসরৎ, ড্রিল, ঘোড়ায় চড়া, লাঠি খেলা চলতে থাকল। কিন্তু ডাকাতি চালানোর প্রশ্নে গুপ্ত বিপ্লবী দলের সঙ্গে মতভেদ তৈরি হয় সরলা দেবীর।

Related posts

Leave a Reply

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: