SASIPADA_BANERJEEOLDIES RUMBLE The Lector 

শশীপদর প্রতিষ্ঠিত স্কুলের প্রথম ছাত্রী স্ত্রী রাজকুমারী

স্বাস্থ্যের কারণে উচ্চশিক্ষার পথে এগেোতে পারেননি। তবে নারী ও শ্রমিকদের শিক্ষা এবং অধিকারের জন্য কিছু করার কথা ভাবতেন বরানগরের শশীপদ বন্দ্যোপাধ্যায়। ঠিক করলেন মেয়েদের স্কুল খুলবেন। আর তাতেই খেপে উঠলেন সমাজপতিরা।

সমস্যার সমাধানও হয়ে গেল হঠাৎই। বিয়ে করলেন শশীপদ। বিশ বছরের শশীপদর কনে ১৩ বছরের রাজকুমারী। ১৮৬০ সাল। বিয়ে করলেন একেবারে বিনা পণে। সেই যুগে এটাও চমকে যাওয়ার মত খবর। সেকালে বলত, লেখাপড়া শিখলে মেয়েরা বিধবা হয়ে যাবে। আর নিজের স্ত্রী রাজকুমারীকেই প্রথম ছাত্রী হিসেবে লেখাপড়া শেখাতে লাগলেন শশীপদ।

সমাজে ঢিঢিক্কার পড়ে গেল। দিনদুপুরে স্বামীর সঙ্গে বসে লেখাপড়া শিখছে নতুন বউ! কটাক্ষ করতে লাগলেন সেকালের মেয়েরাই। তবে যেমন শশীপদ, তেমনই রাজকুমারী—কেউই দমবার পাত্র নন। নিজের বোনকেও পড়াশুনো শেখাতে স্কুলে আনেন রাজকুমারী। স্বামী-স্ত্রীতে মিলেই বরানগরে প্রতিষ্ঠা করেন রাজকুমারী বালিকা বিদ্যালয়ের। (বর্তমানে এই স্কুলের নাম রাজকুমারী মেমোরিয়াল গার্লস হাইস্কুল)

শিবনাথ শাস্ত্রী বলেছিলেন, ‘অন্তঃপুর শিক্ষার প্রবর্তক শশীপদ বন্দ্যোপাধ্যায়’। শ্রমিকদের জন্য সান্ধ্য স্কুলও গড়েছিলেন শশীপদ, শ্রমজীবী সঙ্ঘ। সস্ত্রীক ব্রাহ্মধর্ম গ্রহণ করায় সামাজিক বয়কট করা হয় শশীপদ বন্দ্যোপাধ্যায়কে।

Related posts

Leave a Reply

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: