GANESH_CHITTAGONGHEROIC The Lector 

চট্টগ্রামের বিপ্লবীরা- গণেশ ঘোষ

যশোরের বিনোদপুরের ছেলে গণেশ ঘোষ কম বয়সেই চট্টগ্রামের বিপ্লবী আন্দোলনের সংস্পর্শে চলে আসেন। ১৯২১ সালে অসহযোগ আন্দোলনের সময় দেশের কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন গণেশ। সেই সময় চট্টগ্রামের বর্মা অয়েল কোম্পানি ও অসম বেঙ্গল রেল কোম্পানিতে শ্রমিক ধর্মঘট হয়। সেই আন্দোলনে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন গণেশ ঘোষ। ১৯২২ সালে আন্দোলন স্থগিত হয়ে গেলেও বিপ্লবী সংগ্রামের পথেই এগিয়ে চলেন তিনি।

১৯২২ থেকে ১৯২৪ সালে বিভিন্ন ঘটনায় বেশ কয়েকবার গ্রেফতার হন। ১৯২৪ সালের অক্টোবরে ৩ আইনে গণেশ ঘোষকে গ্রেফতার করে ব্রিটিশ পুলিশ। ৪ বছর জেল খেটে ১৯২৮ সালে মুক্তি পেয়ে কলকাতার কংগ্রেস অধিবেশনে যোগ দেন। ততদিনে চট্টগ্রামে বিপ্লবী সংগ্রামে দানা বাঁধতে শুরু করেছে। সেই সময় চট্টগ্রামে সংগ্রামকে জোরদার করতে শুরু করে দেন গণেশ ঘোষ। তিনি তখন বঙ্গীয় প্রাদেশিক রাষ্ট্রীয় সমিতির সদস্য, চট্টগ্রাম জেলা কংগ্রামের কার্যকরী সমিতির সদস্য, জেলার যুব সমিতির সম্পাদক, চট্টগ্রাম জেলা স্বেচ্ছাসেবী বাহিনীর অধিনায়ক, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কলেজ ও স্কুলগুলির স্পোর্টস সংগঠনের সম্পাদক এবং চট্টগ্রামের সদরঘাট ক্লাবের সম্পাদক। আসলে সেই সময় যুব সম্প্রদায়কে সঙ্ঘবদ্ধ করতে চট্টগ্রাম জুড়ে ব্যায়াম সমিতি, যুব সমিতি গড়ে ওঠে। আর সেই কাজেই উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিয়েছিলেন গণেশ ঘোষ।

১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিল। সকলকে চমকে দিয়ে চট্টগ্রামে সরকারি অস্ত্রাগার লুঠ করে নিলেন বিপ্লবীরা। ঘটনার পরই পুলিশের চোখে ধূলো দিয়ে চন্দননগরে গিয়ে গা ঢাকা দেন বিপ্লবী গণেশ ঘোষ। পুলিশ কমিশনার চার্লস টেগার্টের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী হানা দেয়। ধরা পড়ে যান গণেশ ঘোষ। পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয় বিপ্লবী জীবন ঘোষাল ওরফে মাখনের। ১৯৩২ সালের ১৫ অগাস্ট আন্দামানের সেলুলার জেলে নির্বাসিত হন বিপ্লবী গণেশ ঘোষ।

১৯৪৬ সালে জেল থেকে মুক্তির পরে কমিউনিস্ট হয়ে যান গণেশ ঘোষ। প্রথমে সিপিআই, পরে সিপিএম। ১৯৫২ সাল থেকে পরপর তিনবার বেলগাছিয়া কেন্দ্র থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হন তিনি। ১৯৬৭ সালে দক্ষিণ কলকাতা কেন্দ্র থেকে জিতে সংসদে যান। ১৯৭১ সালে ফের দক্ষিণ কলকাতা কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থী হন গণেশ ঘোষ। এইবার তাঁকে পরাজিত করেন ২৬ বছরের প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি।

১৯৯৪ সালের ১৬ অক্টোবর প্রয়াত হন গণেশ ঘোষ।

Related posts

Leave a Reply

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: