Freedom StruggleHEROIC The Lector 

৩ সন্তানের মৃত্যুর হুঁশিয়ারিতেও সুশীলাকে আটকাতে পারেনি ব্রিটিশ

পড়াশোনা করেছিলেন পঞ্চম মান পর্যন্ত। কিন্তু বুঝেছিলেন, নোয়াখালিতে নারীশিক্ষা ও নারীর মানসিক জাগরণ কতটা জরুরি। সুশীলা মিত্র জন্মেছিলেন ত্রিপুরার আশিকাঠি গ্রামে। কুমুদিনীকান্ত মিত্রর সঙ্গে বিয়ের পর নোয়াখালিতে চলে যান সুশীলা দেবী। দারিদ্রের সঙ্গে লড়াই করে চলত সংসার। প্রথম থেকেই জনকল্যাণের জন্য কিছু করার কথা ভাবতেন সুশীলা দেবী।

বাড়িতে বিপ্লবীদের আনাগোনা ছিল। বিপ্লবীদের কাজ থেকে অনুপ্রেরণা পেতেন সুশীলা দেবী। নোয়াখালিতে ‘সরোজনলিনী নারীমঙ্গল সমিতি’ গঠিত হয়। সম্পাদিকা হন সুশীলা মিত্র। সেই সময় নোয়াখালিতে প্রসূতি ও শিশুমৃত্যু ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। নিজে ধাত্রীবিদ্যার পাঠ নেন সুশীলা দেবী। সমিতিতে চিকিৎসক কিরণ ঘোষের কাছে ধাত্রীবিদ্যার শিক্ষা নেন ২১ জন মহিলা।

নারীমঙ্গল সমিতিতে সেলাই, তাঁত চালানো, লেখাপড়া শেখানোর ব্যবস্থা ছিল। লাঠি ও ছোরা চালানোও শেখানো হত সমিতির তত্ত্বাবধানে। সমিতিতে নাম লেখানো অনেক মেয়ে সাবলম্বী হয়ে ওঠে। নারীমঙ্গল সমিতির কাজকর্ম বাড়ে। শুধু নোয়াখালিতেই ৫টি শাখা খোলা হয়। আর সমিতির কাজের প্রসার ঘটে সুশীলা মিত্র যখন সম্পাদক ছিলেন তখন, ১০-১২ বছরে।

অসহযোগ আন্দোলনের সময় দেশবন্ধু নোয়াখালিতে যান। চিত্তরঞ্জনের আহ্বানে মহিলারা এগিয়ে আসেন। কংগ্রেসের মহিলা সভ্য হন সুশীলা মিত্র। ১৯৩০ সালে লবণ আইন অমান্যে যোগ দেন সুশীলা মিত্র। বেআইনি লবণ তৈরি, পিকেটিং চলে। এই সময় বিপ্লবীদের নিজের বাড়িতে আশ্রয়ও দিতেন সুশীলা দেবী।

১৯৩২ সালের ২৬ জানুয়ারি। সরকারি নিষেধাজ্ঞা উড়িয়ে জাতীয় পতাকা তোলেন সুশীলা দেবী। মিছিল করে এগোতেই তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ব্রিটিশ পুলিশ বলে, ঘরে ৩ সন্তান সেকথা যেন মনে রাখেন সুশীলা দেবী। জেলে গেলে ৩ সন্তান বাঁচবে না। তাই মুচলেকা লিখেই যেন মুক্তি প্রার্থনা করেন সুশীলা দেবী। ঘরে আড়াই মাস, ৩ বছর ও ৫ বছরের সন্তান। ব্রিটিশ পুলিশের কথার জবাবে সুশীলা দেবী বলেন, “ দেশের হাজার সন্তানের সঙ্গে আমার সন্তানরাও যদি বলি যায়, তবে আমি গৌরব বোধ করব, চোখের জল ফেলব না।” ৬ মাসের জেল হয় সুশীলা মিত্রের।

Related posts

Leave a Comment