AMBIKA_CHITTAGONGHEROIC The Lector 

চট্টগ্রামের বিপ্লবীরা- অম্বিকা চক্রবর্তী

সুরাটে জাতীয় কংগ্রেসের অধিবেশনে যোগ দেওয়ায় ভীষণ চটেছিলেন কাকা। সুরাট থেকে ফিরতেই অম্বিকাকে কাকা বেত দিয়ে মারেন। ভীষণ বেত্রাঘাতে অসুস্থ হয়ে পড়েন অম্বিকা । সুস্থ হতেই বাড়ি ছাড়েন তিনি। প্রতিজ্ঞা করেন আর বাড়িমুখো হবেন না।

১৯১১ সালে বঙ্গীয় প্রাদেশিক কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয় চট্টগ্রামে। প্রচণ্ড খাটাখাটনি করছেন অম্বিকা ও তাঁর সহকর্মীরা। কর্ণফুলী নদী পেরিয়ে বেশ কয়েকজন কনফারেন্সে আসছিলেন। সংখ্যায় কমবেশি ১২ জন। উত্তাল কর্ণফুলীতে সেই নৌকা ডুবে যায়। খবর পেয়ে ছুটে আসেন অম্বিকা। উত্তাল কর্ণফুলীতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। একাই ডুবে যাওয়া নৌকার যাত্রীদের উদ্ধার করেন। তাঁর এই সাহসিকতার কথা লোকমুখে ছড়িয়ে পড়ে। কনফারেন্সে উপস্থিত ছিলেন সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়। সাহস আর আত্মত্যাগের কথায় মুগ্ধ হয়ে কনফারেন্সে উপস্থিত জনতার সামনে অম্বিকাকে জড়িয়ে ধরেন তিনি। সেদিন নিজের দামী পকেট ঘড়ি অম্বিকাকে উপহার হিসেবে দিয়েছিলেন সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়।

১৯১৩ সালে বিপ্লবী বাঘা যতীনের সংস্পর্শে আসেন অম্বিকা। প্রথম মহাযুদ্ধের সময় জার্মানি থেকে অস্ত্র আমদানি করে বিপ্লবের পরিকল্পনা হয়েছিল। পরিকল্পনার মাথা ছিলেন বাঘা যতীন। বালেশ্বরে ব্রিটিশ সেনার সঙ্গে যুদ্ধ করেন বিপ্লবীরা। কিন্তু পরিকল্পনা সফল হল না। অন্যদের সঙ্গে ধরা পড়েন অম্বিকা। ১৯১৯ সাল পর্যন্ত জেলবন্দি থাকেন তিনি।

জেল থেকে বেরিয়ে ফের বিপ্লবী কাজে আত্মনিয়োগ করেন অম্বিকা চক্রবর্তী। ১৯২৩ সালে ফের গ্রেফতার হন। ১৯২৮ সাল পর্যন্ত অর্ডিন্যান্স আইনে বন্দি থাকেন তিনি। ১৯২৮ সালে ছাড়া পেয়ে কলকাতা কংগ্রেসে যোগ দেন। ১৯২৯ সালে যোগ দেন লাহোর কংগ্রেসে। ১৯৩০ সালে চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠনের সময় জেলা কংগ্রেসের সহকারী সভাপতি ছিলেন অম্বিকা চক্রবর্তী। অস্ত্রাগার লুন্ঠনের পর অম্বিকা চক্রবর্তীর নামে ৫০০০টাকা পুরস্কার ঘোষণা হয়। পরে চট্টগ্রামের একটি গ্রাম থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। বিচারে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। হাইকোর্টে আপিলের পর যাবজ্জীবন দ্বীপান্তরে দণ্ডিত হন অম্বিকা চক্রবর্তী।

Related posts

Leave a Reply

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: