ANANTA_SINGHHEROIC The Lector 

চট্টগ্রামের বিপ্লবীরা- অনন্ত সিং

চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুঠের পর দিশেহারা ব্রিটিশ পুলিশ। ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চলছে। বেশ কয়েকজন তখন ধরা পড়েছে। কানাঘুষো শোনা গেল, অধিকাংশই নাকি পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি করেছে। অনন্ত সিংকে তখন পুলিশ হন্যে হয়ে খুঁজছে। অনন্ত সিংয়ের নামে ৬০০০ টাকা পুরষ্কার ঘোষণা হয়েছিল। ১৯৩০ সালের ২৮ জুন। হঠাৎ কলকাতা গোয়েন্দা পুলিশের কেন্দ্রীয় অফিসে হাজির ওয়ান্টেড অনন্ত।

অনন্ত সিং আত্মসমর্পন করলেন। কেন? সকলেই অবাক। অবশেষে ব্যাপারটা বোঝা গেল। যাঁরা যাঁরা স্বীকারোক্তি করেছিলেন, সকলে তা প্রত্যাহার করলেন। অনন্ত সিংকে দেখে সকলেই কেঁদে ফেললেন। ব্রিটিশ পুলিশের নির্যাতন, ছল চাতুরির কৌশল সব জলে গেল। আদালতে একজন রাজসাক্ষীও পেল না পুলিশ

জেলখানার সাধারণ কয়েদি থেকে বড় রাজ কর্মচারী- সকলেই অনন্ত সিংকে শ্রদ্ধা করতেন। সৎ, নিষ্ঠাবান, সাহসী, স্পষ্টবাদী- বলতে গেলে চট্টগ্রামের তরুণদের কাছে আদর্শ ছিলেন অনন্ত সিং। চট্টগ্রামে জায়গায় জায়গায় ব্যায়ামচর্চার আখড়া গড়ে তোলেন অনন্ত। তাঁর নেতৃত্বে ছেলেরঘোড়ায় চড়া, লাঠি খেলা, ছোরা, মুষ্টিযুদ্ধ শিখছে। শহরের বাইরে নিয়ে গিয়ে ছেলেদের বন্দুকও চালাতে শেখাতেন অনন্ত সিং।

চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুঠের জন্য ১৫ হাজার টাকা তোলার নির্দেশ দেওয়া হল। বাবার থেকে ৩হাজার টাকা চেয়ে নিয়ে আসেন অনন্ত সিং। কল্পনা দত্ত লিখেছেন, ‘ মাস্টারদা একদিন আমাকে বলেছিলেন, ১৯২৭সালে অনন্ত যখন অস্ত্রাগার লুন্ঠন ও তার আনুষঙ্গিক কতকগুল কাজের পরিকল্পনা দেয়, তখন সেটাকে আমরা অবাস্তব স্বপ্ন ব’লে উড়িয়ে দিই। সে স্বপ্ন অনন্ত সফল করেছে।’

১৯৩০ সালের ২২ এপ্রিল। অস্ত্রাগার লুঠের পর অধিকাংশই তখন গা ঢাকা দিয়েছে। শহরের কাছে জালালাবাদ পাহাড়ে বিপ্লবীদের সঙ্গে ব্রিটিশ পুলিশের খণ্ডযুদ্ধ হয়। বিপ্লবীদের ১২জন নিহত হন। সেই রাতে ফেণি রেলস্টেশন থেকে ৪জন সন্দেহভাজন যুবক গ্রেফতার হয়। থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় গুলি চালিয়ে ৪ যুবকই চম্পট দেন। ৪জন হলেন, আনন্দ গুপ্ত জীবন ঘোষাল, গণেশ ঘোষ এবং অনন্ত সিং।

পরে ব্রিটিশ পুলিশের কৌশলে সহ বিপ্লবীদের রাজসাক্ষী হওয়া আটকাকে আত্মসমর্পন করেন অনন্ত সিং।

১৯৩২ সালের ১লা মার্চ অনন্ত সিংকে যাবজ্জীবন দ্বীপান্তরের দণ্ডাদেশ দেয় আদালত।

Related posts

Leave a Reply

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: