PRITILATAHEROIC The Lector 

পুরুষের ছদ্মবেশে গিয়ে মাস্টারদার সঙ্গে প্রথম সাক্ষাৎ প্রীতিলতার

বিএ পাশ করে ১৯৩২ সালে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার তখন চট্টগ্রামে নন্দনকানন গার্লস স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা। পালিয়ে বেড়াচ্ছেন মাস্টারদা। ধলঘাট গ্রামে প্রয়াত নবীন চক্রবর্তীর বাড়িতে লুকিয়ে মাস্টারদা। সঙ্গে আত্মগোপন করে আছেন নির্মল সেন, অপূর্ব সেন। প্রয়াত নবীন চক্রবর্তীর বিধবা স্ত্রী সাব্ত্রী দেবী ও ছেলে রামকৃষ্ণ বিপ্লবীদের সেবাযত্ন করছেন। বাড়ির কিছুটা দূরেই ধলঘাট মিলিটারি ক্যাম্প।

সেই বাড়িতেই একদিন পুরুষের ছদ্মবেশে এলেন প্রীতিলতা। কল্পনা দত্ত তাঁকে পরিচয় করিয়ে দিলেন মাস্টারদা সূর্য সেনের সঙ্গে। মাস্টারদার সঙ্গে এটাই প্রথম দেখা প্রীতিলতার। এরপর মাঝেমধ্যেই এসে মাস্টারদার সঙ্গে দেখা করতেন তিনি।

১৯৩২ সালের ১২ জুন। সেদিন মাস্টারদার সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন প্রীতিলতা। বিপ্লবী কাজকর্ম নিয়ে কথা হচ্ছে। রাত তখন ৮টা। বাড়ি ঘিরতে শুরু করেছে মিলিটারি। বাড়িতে তখন মাস্টারদা, নির্মল সেন, অপূর্ব সেন ও প্রীতিলতা।

সকলেই নিচের ঘরে খেতে বসেছেন। আস্তে আস্তে এগোচ্ছে পুলিশ। নেতৃত্বে ক্যাপ্টেন ক্যামবেন। পায়ের শব্দ শুনেই সতর্ক মাস্টারদা, অপূর্ব সেনরা। বাঁশের সিঁড়ি দিয়ে দো’তলায় উঠছেন সকলে। লাথি মেরে ঘরের দরজা ভেঙে ফেললেন ক্যাপ্টেন ক্যামবেন। তৈরি হয়েই ছিলেন নির্মল সেন। দরজা ভাঙতেই গুলি ছুড়লেন। লুটিয়ে পড়লেন ক্যাপ্টেন ক্যামবেন। কিছুক্ষণ সব নিস্তব্ধ। পায়ার প্রস্তুতি নিলেন বিপ্লবীরা। বারান্দার টিনের উপরে উঠে পালানোর পরিকল্পনা। কিন্তু টিনে উঠতেই আওয়াজ হল। গুলি চালাল বাহিনী। নিহত হলেন নির্মল সেন। বাকি তিনজন আস্তে আস্তে নেমে এলেন অন্ধকারে। ঠিক করলেন পূর্ব দিকের পাটিপাতার ঝাড়ের মধ্যে দিয়ে পালাবেন। একটু আওয়াজ হতেই ফের গুলি চালাল বাহিনী। গুলিবিদ্ধ হলেন অপূর্ব সেন। শহিদ হলেন। পুলিশের চোখে ধূলো দিয়ে পালিয়ে গেলেন মাস্টারদা ও প্রীতিলতা।

ভোররাতে সাবিত্রী দেবী ও তাঁর ছেলে রামকৃষ্ণ গ্রেফতার হলেন। পরদিন প্রীতিলতার বাড়িতে গেল ব্রিটিশ পুলিশ। বাড়ি খানা তল্লাশি হল। প্রীতিলতাকে জেরা করা হল। তাঁর ওপর কড়া নজরদারি শুরু হল। বিপ্লবী কাজের সুবিধার জন্য মাস্টারদার কাছে আত্মগোপন করার নির্দেশ চাইলেন প্রীতিলতা। নির্দেশ এল। বাড়ি ছাড়লেন প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার।

Related posts

Leave a Reply

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: