Ramdulal SarkarOLDIES RUMBLE The Lector 

পুরানো সেই দিনের কথা:উন্মাদের ‘শিক্ষাতে’ অতিথিশালা গড়েছিলেন রামদুলাল

পুরানো কলকাতা

পুরানো সেই দিনের কথা। হাটখোলার দত্তবাড়ির পোষ্য হয়েই লেখাপড়া শেখেন রামদুলাল সরকার (Ramdulal Sarkar)। সেখানেই বিল সরকার, শিপ সরকার পদে চাকরিও করেন। তারপর ব্যবসা করে তিন বড়লোক হন। বড়লোক হলেও অহঙ্কারী ছিলেন না তিনি। দান ধ্যানও করতেন।

ইতিহাস বলে, ধনী হওয়ার পর প্রতিদিন ৭০ টাকা করে দান করতেন রামদুলাল সরকার। সেই সময় সুদূর মাদ্রাজ প্রদেশে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ হয়। সেই খবর পেয়ে এক লক্ষ টাকা দান করেন রামদুলাল। সেই রামদুলালকেই জীবন শিক্ষার পাঠ পড়িয়েছিল এক ‘পাগল’।

কলকাতায় রামদুলাল সরকারের বাড়ির কাছেই একজন বাস করতেন-তিনি মানসিক রোগগ্রস্ত। লোকে তাকে উন্মাদ বলত। একদিন সকালে বাড়ির বৈঠকখানায় বসে বিষয়চিন্তা করছিলেন রামদুলাল।হঠাৎ ওই উন্মাদ বৈঠকখানায় ঢুকে পড়ে। রামদুলালের কোলে একচা মরা পায়রা ছুড়ে দেয়।

মরা পায়রার সারা শরীরে পোকা ভর্তি। চমকে ওঠেন রামদুলাল। বলেন, “ ব্যাটা পাগল! কোথা হ’তে একটা মরা পায়রা এনে গায়ের উপর ফেলে দিলে!”
‘পাগল’হেসে বলল, “ যে নিজ শরীর দ্বারা সহস্র জীবকে আহার দান করিতেছে সে মরা, আর তুমি রামদুলাল সরকার কোটিপতি হইয়া এক মুষ্টি অন্ন ব্যয় কর না, তুমি বুঝি তাজা, কেমন? ”

উত্তর শুনে স্তম্ভিত রামদুলাল। ততক্ষণে পালিয়েছে সেই উন্মাদ। কিন্তু তার কথাই মাথায় ঘুরছে রামদুলালের। কলকাতার বৈঠকখানায় বসেই নিজের কর্মচারীকে হাঁক দিলেন রামদুলাল সরকার। নির্দেশ দিলেন, প্রতিদিন দু’শ লোক খেতে পারেন, এমন একটা অতিথিশালা করতে কত খরচ পড়বে, তার আনুমানিক ব্যয়তালিকা তৈরি করতে।

সরকার মশায়ের নির্দেশ পেয়েই কাজে লেগে গেলেন সেই কর্মচারী। কিছুক্ষণ পর আনুমানিক খরচতালিকা নিয়ে এলেন রামদুলালের কাছে। হিসেব দেখে দ্রুত অতিথিশালা স্থাপনের নির্দেশ দিয়ে তবে স্নানাহারে গেলেন রামদুলাল সরকার।

Related posts

Leave a Comment